কাকাঃ একজন হারিয়ে যাওয়া রাজা

ছোটবেলার শক্তিমান কিংবা সুপারম্যানদের মতো একজন সুপার হিরোই ছিলেন।কোন অংশে কম ছিলেনও না।ফুটবলের দ্বিতীয় ভালোবাসা কিংবা প্রথম অনুপ্রেরনা।দ্বিতীয় কেন? তার আগে দিনহো নামের একজনের প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। যেমন হাঁসি ঠিক তেমন পার্সোনালিটি। মাঠেও কোন অংশে কম ছিলেন না। চিতার মতো ক্ষীপ্র গতি দিয়ে লণ্ডভণ্ড করতে দেখেছি প্রতিপক্ষ দলের রক্ষনভাগকে। মধ্যে মাঠ থেকে স্লো রান ব্যাস!হ্যাঁ আমি ব্রাজিলের জন্ম নেয়া এক হারিয়ে যাওয়া রাজা কাকার কথাই বলসি।

কাকা – ব্রাজিল, মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের ছন্দময়ী মিডফিল্ডারের নাম। ২০০৭ সালে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়। কিন্তু তাঁর নামের রহস্য কি? তাঁর আসল নাম রিকার্ডো আইজেকসন ডস সান্টোস লেইটে। আসুন এক নজরে কিছু তথ্য নিয়ে যাই…

কাকা’র প্রাথমিক জীবনঃ

কাকা ব্রাজিলের গামার একটি ধনী পরিবারে ১৯৮২সালের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও মা শিক্ষিকা ছিলেন। তার ভাই ও একজন ফুটবল খেলোয়াড়। তার ভাই রিকার্ডো উচ্চারণ করতে পারতো না। তাকে শুধু কাকা বলে সম্বোধন করত। সেখান থেকেই মূলত তার নাম হয়ে যায় কাকা। ৭ বছর বয়সে সে সাও পাওলো তে বসবাস শুরু করে। সেখানকার স্কুল থেকে একটি যুব ক্লাবে ভর্তি হয় এবং একটি টুর্নামেন্ট জিতে। তখন সাও পাওলো ফুটবল ক্লাব তাদের যুব দলে তাকে খেলার সুযোগ করে দেয়।

১৯৮২ সালে জন্ম নেয়া কাকা ফুটবল খেলা শুরু করেন মাত্র আট বছর বয়সে স্থানীয় একটি ক্লাবের হয়ে। আর সেসময়ই তিনি সিদ্ধান্ত নেন ফুটবলার হওয়ার। তবে তাঁর সে স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছিল মাত্র ১৮ বছর বয়সে। সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে তিনি মেরুদন্ডে সেসময় আঘাত পান। এই আঘাত এমনই ছিল যে, অনেকে ভেবেছিলেন তিনি পঙ্গু হয়ে যাবেন। তবে সে অবস্থা থেকে তিনি ফিরে আসেন। কাকা মনে করেন, বিধাতার কৃপাতেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তাই তখন থেকে তিনি তাঁর আয়ের একটা অংশ নিয়মিত চার্চে দান করে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন কাকা।

কাকার ক্যারিয়ারঃ

রক্তে যদি থাকে খেলার টান, কে আটকায় ! ঠিক ছোটটেই দুরন্ত প্রতিভার বিকাশ করে তিনি আট বছর বয়সে একটি স্থানীয় ক্লাবের হয়ে তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। সে সময়ে তিনি টেনিসও খেলতেন এবং পনেরো বছর বয়সে সাও পাওলো এফসির সাথে পেশাদারী চুক্তি করার পরই তিনি ফুটবল খেলাকে ক্যারিয়ার হিসাবে বেছে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। সাও পাওলোর হয়ে খেলার সময় লাটিন আমেরিকার আর যেকোনো খেলোয়াড়ের মতই কাকারও ইচ্ছা হয় ইউরোপে পাড়ি জমানোর। তার কিছুদিন পরই ২০০৩ সালে তিনি €৮.৫ মিলিয়নে ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে এসি মিলানে যোগদান করেন এবং মিলানে অবস্থানকালেই তিনি ব্যালন ডি’ অর এবং ২০০৭ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার লাভ করেন। মিলানের হয়ে এই সাফল্যের পর ২০০৯ সালে ট্রান্সফার ফির তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড €৬৫ মিলিয়নের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবে যোগ দেন। খেলাধুলার পাশাপাশি তিনি তার মানবসেবামূলক কাজের জন্যেও পরিচিত। ২০০৪ সালে তিনি সর্বকনিষ্ঠ মানুষ হিসাবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচির দূত হিসেবে মনোনীত হন। খেলাধূলার পাশাপাশি তিনি তার মানবসেবামূলক কাজে অবদান রাখায় ২০০৮ ও ২০০৯ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় টাইম ১০০ তে জায়গা করে নেন।তিনি প্রথম অ্যাথলেট , যার টুইটার এ ফলোয়ার এর সংখ্যা ১০ মিলিয়নের চেয়ে বেশি।

খেলোয়ার কাকার ক্যারিয়ার ও অর্জন

সাও পাওলোঃ সাও পাওলোতে কাকা যোগ দেন আট বছর বয়সে। ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইয়ুথ টীমে কাঠানোর পর ২০০১ এ প্রথম বারের মত ডাক পায় সাও পাওলোর সিনিয়র দলে। সাও পাওলোর হয়ে প্রথম দফায় ১২৫ ম্যাচ খেলে ৪৭ গোল করে কাকা।

শিরোপাঃ বোটাফাগোর বিরুদ্ধে ফাইনালে পরিবর্তিত খেলোয়ার হিসেবে নেমে ২ মিনিটে ২ গোল করে ক্লাবের একমাত্র Torneio-Rio-Sao paulo জিতাতে অগ্রণী ভুমিকা রাখে।

এসি মিলান‍ঃ যদিও কাকা যথেষ্ঠ পরিপূর্ন খেলোয়াড় কিন্তু তার ভাগ্যের চাবি কাঠি খুলে এই মিলানেই। সাও পাওলোর হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে নজরে আসে ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের এবং ২০০৩ সালে ৮.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে মিলানের বরপুত্র হয়ে যোগ দেয় এসি মিলানে। একমাস পরে রুই কস্তার পরিবর্তে অ্যটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে মিলানের হয়ে অভিষেক হয়। ওই মৌসুমে ১০ টি গোল করেন ৩০ ম্যাচ খেলে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ এসিস্ট। ভালো খেলার সুবাদে প্রথম মৌসুমেই তিনি ২০০৪ সালে সিরিয়া প্লেয়ার অফ দ্যা সিজন হিসেবে ঘোষিত হন। ব্যালন ডিওর(১৫ তম) ও ফিফা প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার (৯ম) হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। পরের মৌসুমে গাটুসো, সিডর্ফ, মেসিমো, রুই কস্তার সাথে মিলে একটি শক্তিশালী মিডফিল্ড গঠিত হয়। ওই মৌসুমে মিলান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রানার্স-আপ হয় লিভারপুল এর কাছে পেনাল্টি হেরে। ফাইনালটি মিরাকল অফ ইস্তাম্বুল বলা হয়,ম্যাচটিতে কাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যেখানে প্রথম গোলটি তার এসিস্টেই হয়। ওই টুর্নামেন্টে ৫টি এসিস্ট ও ২টি গোল করেন।আবারো ব্যালন ডিওর (৯ম) ও ফিফা বেস্ট প্লেয়ার (৮ম) এর জন্য মনোনীত হন তবে ২০০৫ উয়েফা সেরা ক্লাব ফুটবলার হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মত হ্যাট্রিক করেন। এবারেও মনোনীত হলেও জিততে পারেননি ব্যালন ডিওর। উয়েফা টিম অফ দ্যা ইয়ারের জন্য নির্বাচিত হন।

2e86757c612c96eade20729581db6de7

এসি মিলানের হয়ে ২০০৭ এ জেতা ফিফা ব্যালন ডি’ওর হাতে।ছবিঃ অনলাইন

২০০৬-০৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তে তিনি সবচেয়ে বেশি গোল এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫টি এসিস্ট করেন এবং মিলান শিরোপা জয় করে। একটি অনলাইন পোল দ্বারা তিনি ভোডাফোন ফ্যানস প্লেয়ার অফ সিজন হিসেবে নির্বাচিত হন। উয়েফা প্লেয়ার অফ সিজন হিসেবেও ঘোষিত হন। একাধারে দ্বিতীয় বারের মত উয়েফা টিম অফ দ্যা সিজন এর একজন সদস্য হন। তিনি ২০০৭ ফিফা বেস্ট প্লেয়ার এওয়ার্ড জয় করেন। ৮ম মিলান প্লেয়ার ব্যালন ডিওর জিতেন। ২০০৭ উয়েফা সুপার কাপে সেভিয়ার বিপক্ষে জয়ে ৩য় গোলটি তিনি করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর মিলানের হয়ে ২০০ তম ম্যাচ খেলেন কাতানিয়ার বিপক্ষে যেটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ২০০৮ ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জয় করেন মিলানের হয়ে। সেই ম্যাচে ৩য় গোলটি তার পা থেকে আসে।টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বলটিও তিনি লাভ করেন।

শিরোপা‍ঃ এসি মিলানের হয়ে জিতেন ১টি সিরি-এ, ১টি ইতালিয়ান সুপার কাপ, ১ টি ইউসিএল, ১টি উয়েফা সুপার কাপ ও ১টি ফিফা ক্লাব ওর্য়াল্ড কাপ।

রিয়াল মাদ্রিদঃ এসি মিলানের হয়ে মাঠ কাঁপানো কাকাকে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে ভেড়ায়। প্রিয় ক্লাবে প্রিয় খেলোয়াড়ের আগমনে আমার আনন্দও বেড়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস রিয়ালে আসার পরে ইঞ্জুরির সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেন কাকা। বারবার ইনজুরির কারণে একাদশে জায়গা হারিয়ে রিয়ালে বেশীরভাগ সময় বেঞ্চে বসেই কাটাতে হয়। রিয়ালে থাকাকালীন সবধরণের প্রতিযোগিতায় ১২০ ম্যাচ খেলে ২৯ গোল ও ৩২ অ্যাসিস্ট করে।

শিরোপা‍ঃ রিয়ালের হয়ে কাকার অর্জন ছিল ১ টি লা লীগা, ১টি কোপা দেল রে, ১টি স্পেনিশ সুপার কাপ।

2011-634560984845414948-541

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইঞ্জুরী আক্রান্ত কাকা।ছবিঃ ইন্টারনেট

এসি মিলান‍ঃ ২০১৩-২০১৪ মৌসুমে রিয়াল হতে ফ্রি ট্রান্সফারে দ্বিতীয় দফায় যোগ দেয় এসি মিলানে। এসেই এক ম্যাচ খেলে পরে ইনজুরিতে। এসময় কাকা ফিট না হওয়া পর্যন্ত সেলারী না নেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই মৌসুমে মিলানের হয়ে ৩৭ ম্যাচ খেলে ৯ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করেন।

kaka-061914-ap-ftrjpg_1ma4j4278gbz71vi0afps8q9w8

নতুন মিলানে পুরানো কাকার আবির্ভাব।ছবিঃ ইন্টারনেট

সাও পাওলোঃ এসি মিলান হতে যুক্তরাষ্ট্রের ওরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দিলেও, ওরল্যান্ডো সিটির হয়ে খেলতে পারবে ২০১৫ থেকে। তাই বাকি সময়টার জন্য লোনে যোগ দেয় তার বেড়ে উঠার ক্লাব সাও পাওলোতে।
দ্বিতীয় দফায় সাও পাওলোর হয়ে ২৪ ম্যাচ খেলে ৩ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে।

ওরল্যান্ডো সিটিঃ সাও পাওলোতে লোন পিরিয়ড শেষ করে ফিরে আসে ওরল্যান্ডো সিটিতে। এপর্যন্ত ওরল্যান্ডো সিটির হয়ে ৩২ ম্যাচ খেলে ১২ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করে কাকা। বলেছিলাম ইনজুরির সমার্থক শব্দ কাকা। তার ব্যাতিক্রম  এখানেও নেই। এ সিজনে ২ দফায় ইন্জুরিতে পরে ওরল্যান্ডো সিটির হয়ে ৭ ম্যাচের ৪ টিই মিস করে কাকা। যে ৩ ম্যাচ খেলেছে সে ৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে।

Kaka, Andrea Pirlo

২০১৫তে যোগ দেয়া ওরলান্ডো সিটির ম্যাচে।ছবিঃ ইন্টারনেট

‎জাতীয় দলের কাকা

জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় ২০০২ সালে বলিভিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে এবং একই বছরে বিশ্বকাপ দলেও জায়গা করে নেয় কাকা। কাকা প্রথম বারের মত বিশ্বের বেশীরভাগ দর্শকের সামনে আসে বিশ্বকাপের কোস্টারিকার বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে নামার পর। ত্রি আরের যুগে এসেও অল্প দিনের মধ্যেই কাকা কোটি কোটি ভক্তের কাছে আলাদা জায়গা করে নেয়। এখন পর্যন্ত কাকা ব্রাজিলের হয়ে ৯২ম্যাচে ২৯ গোল ও ২৫ অ্যাসিস্ট করে।।তিন বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে জিতেছেন ২০০২ আসরের শিরোপা।

info_1513874133

জাতীয় দলের জার্সীতে কাকা।ছবিঃ ইন্টারনেট

শিরোপাঃ জাতীয় দলের হয়ে কাকার অর্জন ১টি বিশ্বকাপ ও ২টি কনফেডারেশন কাপ।

কাকার ব্যাক্তিগত অর্জনঃ ২০০৭ ফিফা প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার ও ২০০৭ ব্যালন ডি অর ছাড়াও অসংখ্য ছোট বড় পুরুস্কার জিতে কাকা।

কাকার ব্রাজিল দলে নতুন প্রত্যাবর্তন

একসময় ছিলেন ব্রাজিলের অপরিহার্য খেলোয়াড়। তবে সাবেক ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার কাকা দীর্ঘদিন যেন ‘ব্রাত্য’ ছিলেন জাতীয় দলে। ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ, পরের বছরের বিশ্বকাপ আর জুন-জুলাইয়ের কোপা আমেরিকায় স্বদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি। অবশেষে কাকার প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো, দীর্ঘদিন পর ২০১৫ সালে জাতীয় দলে ফিরেন তিনি। কোপা আমেরিকায় ব্যর্থ ব্রাজিলকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ওপরে ভরসা রেখেছিলেন দুঙ্গা। পরের মাসে অনুষ্ঠেয় দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে কাকাকে রাখেন ব্রাজিল কোচ।

4471cb8aa0e5d7df3a171f17e02a1dca

জাতীয় দলে গোল করার পর কাকার ট্রেডমার্ক সেলেব্রেশন।ছবিঃইন্টারনেট

দ্বিতীয় দফা ব্রাজিল কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ৩৩ বছর বয়সী কাকার ওপর নজর রাখছিলেন দুঙ্গা। কোপা আমেরিকার প্রাথমিক দলে ডেকেওছিলেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যকে। যদিও চূড়ান্ত দলে সুযোগ পাননি। তবে সেইবার আর কাকাকে ‘ব্রাত্য’ করে রাখছেন না দুঙ্গা। দল ঘোষণার সময় তিনি বলেছেন, ‘কাকা আমাদের দলের এক উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়। অভিজ্ঞতা আর পরিপক্বতার কারণে আমরা তাঁকে দলে নিয়েছি। মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

চেহারাটা যেমন মনোহর। কাকার ফুটবলটাও তেমনি ছিল হৃদয়গ্রাহী। মাঝমাঠে নিখুঁত পাসিংয়ে তার জুড়ি ছিল না। ড্রিবলিংটাও ছিল দেখার মত। সব মিলিয়ে শুরু থেকে ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের অপরিহার্য নাম ছিলেন কাকা।২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পেশাদার ফুটবল থেকে কাকা অবসর নিয়েছেন। বিদায়বেলায় টুইটারে জানিয়েছেন অবসরের খবর। একটি ছবিও পোস্ট করেছেন। যেখানে দু’হাত তুলে, হাঁটু গেড়ে চোখ বন্ধ করে আত্মনিবেদনের ভঙ্গিতে বসে আছেন কাকা। টুইটারে লিখেছেন- ‘পিতা, তোমাকে ধন্যবাদ। আমি যা ভেবেছিলাম, এটা তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পরবর্তী সফরের জন্য আমি তৈরি। যিশুর নামে, আমিন।’

সর্বশেষ অরল্যান্ডো সিটিতে খেলা কাকার ৩৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণার সময়েও খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কয়েকটি ক্লাবের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু কোনো কিছুই আর মাঠে টানতে পারেনি তাকে। কাকা বলেছেন, ‘আমি চিন্তা করার জন্য সময় নিয়েছি এবং সুস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার পেশাদার জীবন নিয়ে কী করব সে সম্পর্কে আমি সচেতন।’ ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার পর কী করবেন কাকা ! ব্রাজিলিয়ান গ্লোবাল টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাকা বলেন, ‘আমি অন্যভাবে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই। হতে পারে কোচ কিংবা স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে। আমি পেশাদার ফুটবলার হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। নতুন ভূমিকার (কোচ, স্পোর্টিং ডিরেক্টর) জন্যও কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। তবে পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানার এটাই সময়।’

কাকার গৌরবময় ক্যারিয়ারে ২০০২ সালের বিশ্বকাপসহ ২০০৫ ও ২০০৯ সালে কনফেডারেশন্স কাপ জয়ের সাফল্য আছে। কাকা ক্লাব ফুটবলে এসি মিলানের হয়ে সিরি-এ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগও (২০০৭ সালে) জিতেছেন। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন লা লীগার শিরোপা এবং কোপা দেল রে। ঝুলিতে আছে ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। কাকার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত সেটাই। কাকা বলেন, ‘ওটা ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল। যেভাবে হেরেছিলাম, সেটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। অবসরের পর তাকে হয়তো নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে। এসি মিলান এরই মধ্যে কাকাকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে। সুনির্দিষ্ট করে না বললেও ধারণা করা হচ্ছে, সহকারী কোচের দায়িত্বের প্রস্তাব পেতে পারেন তিনি।

লেখাঃ Arafat Rupok

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s