” অপরুপ পলায়ন “

আজরাতে সেহেরী খাওয়ার ইচ্ছা টা আর নাই, কি করবো আঁধার ঘরটা বড়ই খারাপ তাই বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় বের হইলাম। এরকম রাস্তায় রাত কাটানো আমার জীবনে নতুন না।। বহুদিন পর রাতের নগরী দেখতেছি আমি ঘর থেকে বেড়োনোর সময় ইশকের গাঁজা সাথেই নিয়ে এসেছি, মোড়ে দাড়িয়ে স্টিক ফুঁকে আশে পাশে কুকুর খুঁজতে শুরু করলাম কি ব্যাপার আজরাতে কোন কুকুর দেখি না কেন!!

ওই তো দোকানটার সামনে কয়েকটা কুকুর শুয়ে ঘুমাচ্ছে তার পাশে একটা কুকুরী অসহায় হয়ে বসে আছে, হয়তো গোটাকতক কুকুর কামুক হয়ে ও কে গণধর্ষণ করেছে। আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম ও ভয় পেয়ে কামড়ে দিলো, ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক যেখানে ও ওর সমাজ মানে কুকুরদের কাছেই সুরক্ষিত না সেখানে আমি অবিকল মানুষের মতোই দেখতে এক অদ্ভুত মৃত জানোয়ার ও আমাকে মানুষ ভেবে ভুল করেছে।। যাক সমস্যা নাই কিছুদিন আগে কিছু লোক এসে ওদের টিকা দিয়েছে।
আমি ওরে জড়িয়ে ধরে বসলাম আর বললাম ভয় পেয়ো না আমি তোমার বন্ধুর মতোই তুমি আমার কাছে সুরক্ষিত।। তখন সে একটু সহজ হয়ে গায়ে গা লাগিয়ে বসলো কিছুই বলে না! কি জ্বালা বোবা চোদা নাকী??

আমি বললাম দেখো আকাশে কত সুন্দর চাঁদ দেখো ওই চাঁদ কত কিছু দেখায় ওখানে দেখা যায় সব অতীত।। ও কিছুই বলে না আমি অনর্গল বকতে শুরু করলাম,

ওই যে দেখো চাঁদে বিনোদিনীকে দেখা যায়, সাদা শাড়ি লাল পাইড়ের, কপালে সিঁদুর দিয়ে আঁকা বড় লাল টিপ, চোখ যেনো তার কাজল বরণ, খোঁপায় রক্তজবার ফুল,হাতে বেলী ফুলের মালা,
কি সুন্দর না আমার বিনোদিনী,তুমি চাইলে ওর সাথে কথা বলতে পারো ওর মনে কোন অপবিত্রতা নেই।তবে তুমি চাইলে ওর সাথে প্রেম করতে পারবে না কারণ তুমিও স্ত্রি লিঙ্গের সেও স্ত্রি লিঙ্গের অধিকারীনি।

ওই যে দেখো চন্দ্রকথাকে দেখা যায় চাঁদের আলোয়, মেয়েটা দেখেছো কত অদ্ভুত আজো ঠাঁকুর ঠাঁকুর বলে অস্থির। জানো ওর না অনেক ভালো ঘরে সম্বন্ধ হয়েছে কুরবানির ঈদে ওর বিয়ে। আচ্ছা ও কে বিয়ের সাজে কেমন লাগবে ও কি নিজের বিয়েতেও দুষ্টামী করবে!!

ওই যে দেখো নিলাদ্রীকে চাঁদের আলোয় দেখা যায় হাহা, মেয়েটাকে প্রথম আর শেষ দেখেছিলাম ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে বড়ই সৌন্দর্য নীল রংয়ের লম্বা সেলোয়ার পড়া ভিজে চুপসে যাওয়া বদন আহা, আমি সেদিন আমার লম্বা চুলে স্পাইক করে রেখেছি তখন চুলের স্টাইল খুব পরিবর্তন করতাম। তবে মেয়েটা কিপটা ছিলো বিয়ে দাওয়াত দিয়েছিলো কিন্তু কার্ড পাঠায় নি এমন কি আমি যেতে পারবো না বলেছিলাম আমার জন্য টাকাও পাঠায় নি।।

এবার দেখো কাকে দেখতেছো এটার নাম গোধুলী সিঁদুর আওড়ানো কপালে আর পাশের ছেলেটা ওর বর।। আমার খারাপ সময়ে পাশে ছিলো সব সময় সাহায্য করেছে বিনিময়ে চেয়েছিলো একটু খানি ভালোবাসা কিন্তু কখনো দিতে পারি নাই।।

এখন যাকে দেখতেছো সে যমুনা, বড়ই অসহায় তার বিষয়ে কি বলবো, তার জীবন আমার থেকেও বেশি বিষাক্ততায় পরিপূর্ণ। তবে তার চাহনী যেন স্বর্পনখা।।

এই দেখো চাঁদে কাকে দেখা যায় চিনো মেয়েটাকে?? কুকুরী তখন আমার দিকে তাকিয়েছে তার মানে সে চিনেছে। আসলে চেনারই কথা কারণ
আলোকলতাকে নিয়ে আমার এলাকাতে ঘুড়েছি, আমার এলাকার কুকুর গুলো আমার থেকে বেশি আলোকলতাকে চিনে। আসলে তার রুপটাই এমন ছিলো। আমি তখন মানুষ ছিলাম আমিই ভুলতে পারি নাই আর, এই কুত্তার বাচ্চা গুলা কিভাবে ভুলবে! আলোকলতার চোখে জল দেখা যাচ্ছে, ওহ মনে পড়েছে,আমি সেই পুরাতন গান টা গাইতেছিলাম আর সে শুনে শুনে কাঁদতেছিলো যে গান আর কোনদিন গাইতে চাই না।। সেরাতে গানটা গেয়ে শুনাইতে গিয়ে আমিও খুঁব কেঁদেছি।গান শেষ হওয়ার পরেও কান্না থামে নাই।।আলোক জিজ্ঞেস করেছিলো তার মতো বাজে মেয়ের জন্য কেন কাঁদি, কি করবো যার মাঝে জগতের সর্ব সুখ তার ঘোর থেকে কিভাবে মুক্ত করি।আর সে তো আমার চোখে কখনোই বাজে ছিলো না। দুনিয়াতে এই একটা মেয়েই আছে যে চাইলে রুদ্রকে নখে ডগায় নাচাইতে পারে।।

কুকুরী তখনো কিছু বলতেছে না কি রে বোবাচোদা কিছু তো বল ধুর শাউয়া তুই কিছু না বললে হোগামারা দে গা আমার অনেক কাজ যাই নাইট গার্ডকে সজাগ রাখি তারপর ফিরে এসে, এই কুকুরদের সাথে ঘুমাবো।

– লিখেছেন: Ah Rudra

Advertisements

2 comments

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s